ভারতের বিজ্ঞাপন নিয়ে আইসিসির কাছে অভিযোগ করল পাকিস্তান

বিজ্ঞাপণ নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। সংগৃহীত ছবিটানা বৃষ্টিতে বিশ্বকাপের নাম প্রথমে বৃষ্টি কাপে বদলে গিয়েছিল। এবার সেটা না ‘অভিযোগ কাপে’ রূপ নেয়! উইকেট আর অনুশীলন সুবিধা নিয়ে এর আগে আইসিসির কাছে বিচার চেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এবার পাকিস্তানও বিচার দেওয়ার লাইনে দাঁড়াল। না আইসিসির বিরুদ্ধে নয়, তাদের অভিযোগ ভারতের চ্যানেল স্টার স্পোর্টসের বিরুদ্ধে।

বিশ্বকাপে এর আগের ছয় ম্যাচে কখনোই ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। গত বিশ্বকাপেও ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপণ বানানো হয়েছিল। এবারও এই ম্যাচকে সামনে রেখে ৪১ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপন বানিয়েছে স্টার স্পোর্টস। যেখানে দেখা গেছে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে পাকিস্তানের জার্সি পরা একজনকে শুভকামনা জানাচ্ছেন বাংলাদেশের জার্সি পরা আরেক ব্যক্তি। জবাবে পাকিস্তানের সেই সমর্থক বলছেন, ‘চেষ্টা করে যেতে হবে। যারা চেষ্টা করে, তারা কখনো হারে না। একদিন না একদিন ঠিকই সাফল্য আসবে। বাবা তো এমনটাই বলতেন।’

এ বিজ্ঞাপণ নিয়েই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। তাদের কাছে এ বিজ্ঞাপণ প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও এ ব্যাপারটি জেনেছে। যেহেতু এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তারা এ ব্যাপারে নিজেদের জড়ায়নি। বিসিসিআইয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ‘টিভিসিটা নিয়ে পিসিবির পক্ষ থেকে এহসান মানি আইসিসির কাছে অভিযোগ করেছেন। আমি নিশ্চিত না মানি চিঠি লিখেছেন নাকি ফনে কথা বলেছেন কিন্তু আমরা জানি যে একটা অভিযোগ তোলা হয়েছে।’

আপাতত ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের (২ জুলাই) আগে যেন এ ধরনের টিভিসি বানানো না হয় সেদিকে নজর রাখার কথা বলা হচ্ছে, যাতে অযথা কোনো বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।

যুক্তরাজ্য-কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের ৪ দেশে পড়ালেখা, কাজ ও নাগরিকত্ব

সারা পৃথিবী থেকে সর্বাধিক সংখ্যক লোকজন চলতি বছর ইমিগ্রেন্ট হয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোতে স্থায়ীভাবে বসবাস ও চাকরি করার সুযোগ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, আর্থিক সামর্থ্যের মাপকাঠিতে নির্ধারণ হবে আপনার স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? আপনি আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং কিছু পদ্ধতি ও আইন মেনে আবেদন করে পরিবারসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই মাইগ্রেশন করার সুযোগ নিতে পারেন।
 
ঐতিহ্যবাহী যুক্তরাজ্যে কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ
 
আনুমানিক প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ নাগরিক বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। যা মোট জনগণের প্রায় ১৩ শতাংশ। ইউকে সরকার ভিসার প্রক্রিয়াটিকে পয়েন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালনা করে থাকেন। যারা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ব্যবসায়ী বা খুবই দক্ষ, তাদের জন্য রয়েছে টায়ার-১ ভিসা। টায়ার-২ মূলত সেই সব দক্ষ শ্রমিকদের ভিসা, যাদের ইংল্যান্ডে খুঁজে পাওয়া যায় না। টায়ার-৩ ইতিমধ্যে আমাদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
 
ইউরোপিয়ান ইকোনোমিক এরিয়ার বাইরের দেশগুলোর ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার জন্য রয়েছে টায়ার-৪ ভিসা। অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, লন্ডন অব ইকোনোমিক্সসহ পৃথিবীর নামিদামি অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে দেশটিতে।টায়ার-৫ মূলত আমাদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভিসা প্রোগ্রাম।
 
ক্রিয়েটিভ বা দক্ষ খেলোয়াড় বা যারা চ্যারিটি কাজে সম্পৃক্ত বা যারা বিভিন্ন ধর্মীয় কাজে যুক্ত বা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তির আওতায় যারা পড়েন বা ইউথ মোবালিটি স্কিম বা কাজের জন্য যারা ইউকেতে যেতে চায় তারাই মূলত এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।
 
১২ থেকে ২৪ মাসের জন্য ভিসা দিয়ে থাকে এবং ভিসাটি নবায়নযোগ্য। বাংলাদেশের যে কোনও ব্যাংকে আবেদনকারীর শুধু ১৮৯০ পাউন্ড বা সমপরিমাণ বাংলাদেশি টাকা ব্যাংকে জমা থাকতে হবে।বয়স হতে হয় ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। ব্রিটেনের সব নাগরিক ফ্রি মেডিকেল কেয়ারের আওতায় থাকেন। অষ্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ডে লিভিং কস্ট অনেক কম।
 
গন্তব্য হতে পারে কানাডা
 
পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধিশালী দেশগুলোর একটি কানাডা। কানাডায় যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণের এখনই সময়। নতুন ইমিগ্রেন্টদের জন্য এরই মধ্যে কানাডার ফেডারেল এবং প্রভিনশনাল সরকার তাদের কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে। ৬০টির ওপর কানাডায় ইমিগ্রেশন করার পদ্ধতি রয়েছে।
 
প্রফেশনালদের জন্য অনেকগুলো ক্যাটাগরি রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ফেডারেল ও কুইবেক স্কিল্ড প্রোগ্রাম, প্রভিন্সশনাল নমিনি প্রোগ্রাম, কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্স ক্লাস, ফেডারেল সেলফ এমপ্লয়েড প্রোগ্রাম। এছাড়া রয়েছে ফ্যামিলি ক্লাস স্পন্সরশিপ প্রোগ্রামস। কানাডায় সর্বাধিক সংখ্যক আবেদনকারীএফএসডব্লিউ অ্যান্ড এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোগ্রামে আবেদন করছে।
 
কাজ করার জন্য অস্ট্রেলিয়া
 
অস্ট্রেলিয়ায় বৈধভাবে কাজ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রোগ্রাম সাব-ক্লাস-৪৮২, এই ভিসার ক্ষেত্রে ভিসাপ্রার্থীকে অবশ্যই টিএসএস ভিসার পেশা তালিকার জন্য একটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মনোনীত হতে হবে। এই ভিসার জন্য আইইএলটিএসে প্রতিটি ব্যান্ডে ৫ বা সমমানের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।
 
সাব-ক্লাস-৪৮২ পোগ্রাম-মূলত ডিগ্রি পাসধারী দক্ষ ও অভিজ্ঞ বাংলাদেশিদের জন্য এটা বিরাট সুযোগ। বাংলাদেশিরা যদি প্রথম থেকেই দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে ফাইল প্রসেস করে তবে স্বল্প সময়ে এই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত। যেহেতু অস্ট্রেলিয়া ডিমান্ড লিস্টে ৪৩২টি পেশা রয়েছে, সুতরাং অনেকেই বিভিন্ন সাব-ক্লাসে আবেদন করে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগটি নিতে পারেন।
 
যেমন: এমপ্লয়ার স্পন্সরশিপ, এমপ্লয়ার নমিনেশন স্কিম (১৮৬),স্কিল্ড ইনডিপেনডেন্ট ভিসা ১৮৯, ১৯০, স্কিল্ড রিজিওনাল ভিসা (সাব-ক্লাস ৪৮৯), রিজিওনাল ¯পন্সরড মাইগ্রেশন স্কিম (১৮৭)।
 
শান্তির দেশ নিউজিল্যান্ড
 
নির্দিষ্ট সময় পর পর স্কিলড মাইগ্রেশন ক্যাটাগরিতে ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বছরে প্রায় কয়েক হাজার পরিবার এ প্রোগ্রামের আওতায় নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী নাগরিকত্ব (পিআর) পেয়ে থাকেন। এই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশিরাও নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ নিতে পারেন।
 
স্কিলড মাইগ্রেশন ক্যাটাগরি সম্পর্কেও এই আবেদনের শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা সম্পর্কে জানানো হয় নিউজিল্যান্ডের সরকারি ওয়েবসাইটে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন।
 
নিউজিল্যান্ডে সম্ভাব্য পেশার মধ্যে রয়েছে জেনারেল প্রেকটিশনার, প্যাথলজিস্ট, সাইকোথেরাপিস্ট, সোনোগ্রাফারসহ আরও কিছু খাত। নিউজিল্যান্ড সরকারের ওয়েবসাইটে দেশটিতে চাহিদা থাকা বিভিন্ন পেশার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্টুডেন্ট ভিসা নিয়েও পড়াশোনা করতে পারেন দেশটিতে।
 
পড়াশোনা করুন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে
 
সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত গড়ে তুলতে ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেড হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান। আপনার যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী তারা বিশ্বের যেকোনো দেশে ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ে থাকা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ব্যবস্থা করতে পারবে।
 
সাধারণত বাংলাদেশি ছেলেমেয়েদের কাছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইউকে, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই থাকে পছন্দের শীর্ষে। ইঞ্জিয়ারিং, মেডিকেল, বিজনেস, আইটি, আইন ইত্যাদি যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারেন।
 
যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে কাজ, পড়ালেখা ও নাগরিকত্ব গ্রহণ সম্পর্কে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, চলতি বছর প্রচুর দক্ষ লোকের প্রয়োজন পড়বে। আমরা যদি সঠিকভাবে ও যোগ্য লোক বাছাই করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারি, তবে সবাইকে পেছনে ফেলে আমরাই উপরোক্ত দেশ গুলোর শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন খাত দখল করতে পারব। বাংলাদেশের সেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ডলারে এক টাকা অবমূল্যায়ন চায় বিজিএমইএ

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আজ রোববার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক। আরও উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহসভাপতি এম এ রহিম, এস এম মান্নান, মশিউল আলম প্রমুখ।

বাজেট ঘোষণার আগে রপ্তানি খাতের জন্য ডলারপ্রতি অতিরিক্ত ৫ টাকা বিনিময় হার দেওয়ার দাবি করেছিল বিজিএমইএ। তখন তারা বলেছিল, এই সুবিধা দিলে পোশাক খাতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ হবে প্রায় ১২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে পোশাক রপ্তানিতে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সে জন্য বাজেটে ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আজ বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক পোশাক রপ্তানিতে অন্তত ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি করেন। তিনি বলছেন, প্রস্তাবের চেয়ে অতিরিক্ত ২ শতাংশ প্রণোদনার জন্য ৫ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

পোশাক রপ্তানিতে আজ ৩ শতাংশ প্রণোদনা চাইলেও বাজেটের ঘোষণার আগে বিজিএমইএ ৫ শতাংশ প্রণোদনা দাবি করেছিল। সে সময় বিজিএমইএ বলেছিল, ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য ১৪ হাজার ১২৫ কোটি টাকার দরকার হবে।

আদালতে চলতে চলতেই বিচারকের মৃত্যু!

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এজলাসেই মারা গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এক বিচারক। রোববার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সকালে নিজ বেঞ্চে একটি মামলার কাজ শেষ করে এক আদালত কর্মকর্তার কাছে সহায়তা চেয়েছেন পুটনাম কাউন্টি কোর্টের বিচারক জেমস রিটস।

পুটনাম কাউন্টি নির্বাহী ম্যারিএলেন ওডেল বলেন, আমরা আরেকটি মামলার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছিলাম, তখন কোর্ট কর্মকর্তার কাছে সহায়তা চান রিটস।

কিন্তু তখনই মাটিতে পড়ে যান বিচারক রিটস। পরবর্তী সময়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

মৃত ঘোষণার আগে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট তার চিকিৎসা করা হয়েছে। কিন্তু ৫৭ বছর বয়সী এই বিচারকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

২০০৭ সাল থেকে পুটনাম কাউন্টিতে বিচারক হিসেবে কাজ চালিয়ে আসছিলেন রিটস। এর আগে তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন।

মাদক আদালত কর্মসূচির জন্য রিটস খুব পরিচিত ছিলেন। ওই কর্মসূচিতে মাদকাসক্তরা চিকিৎসার সুবিধা পেতেন এবং কারাদণ্ড এড়িয়ে যেতে পারতেন।

 

হারের পর মাথা উঁচু রাখতে বললেন মেসি

কলম্বিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে কোপা আমেরিকা শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। তবে হার ভুলে সামনের দিকে তাকাতে বলেছেন মেসি।

হার দিয়ে কোপা আমেরিকা শুরু করায় অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থকের হয়তো মন ভেঙে গেছে। সেই সমর্থকদের এখনই হতাশ হলে চলছে না। হার ভুলে সামনের দিকে তাকাতে বলেছেন স্বয়ং অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অধিনায়ক যেখানে সাহস দিচ্ছেন, তাহলে আর মনমরা হয়ে থাকা কেন!

আর্জেন্টিনার জার্সিতে একটি শিরোপা জয়ের জন্য হন্যে হয়ে উঠেছেন মেসি। পাঁচবারের ফিফা ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর জন্য আরেকটি সুযোগ এবারের দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের এই টুর্নামেন্ট। কিন্তু কলম্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে শুরুটা হয়েছে যাচ্ছেতাই। হার তো হারই। কিন্তু এই হারের সঙ্গে যোগ হয়েছে ভালো না খেলতে পারার অপরাধ। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আর্জেন্টাইন ব্র্যান্ডের ফুটবল দেখা গেলেও প্রথমার্ধে খুবই বাজে খেলেছে দুইবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে টানা দু-তিনটি পাস ঠিকঠাক হচ্ছিল না, রক্ষণভাগ থেকে বিল্ডআপ খেলে মাঝমাঠের বাইরেই যেন বল আনতে পারছিল না আর্জেন্টিনা। গোলকিপার আরমানি আর ডিফেন্ডার ওটামেন্ডির হাস্যকর ভুলে তো একবার গোলও খেয়ে বসেছিল প্রায়! কলম্বিয়াও খুব একটা ভালো খেলেনি। চোখের জন্য ভীষণ পীড়াদায়ক ৪৫ মিনিট! দ্বিতীয়ার্ধে ডি মারিয়ার বদলে রদ্রিগো দে পল নামার পর আর্জেন্টিনা ভালো খেলতে শুরু করে। কিন্তু অতি আক্রমণাত্মক হয়ে খেই হারায় আর্জেন্টিনা। ৭১ মিনিটে চোখ ধাঁধানো শটে আর্জেন্টিনাকে পিছিয়ে দেন রজার মার্তিনেজ। ১৫ মিনিট পরেই জাপাতার কল্যাণে ২-০। এর পরে আর কার্লোস কুইরোজের মতো রক্ষণাত্মক কোচের দলের বিপক্ষে ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি মেসিদের।

শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এসে শুরুতেই হার। তবে এখানেই শেষ নয়, সামনে এখনো অনেক বাকি আছে বলে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মেসি, ‘অভিযোগের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সামনে তাকাতে হবে। আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে। টুর্নামেন্টের এখনো অনেক বাকি। আমরা চ্যালেঞ্জটা নিতে প্রস্তুত আছি।’ ২০ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ হারার কারণ আছে বেশ কিছু। তবে মেসি মনে করছেন বেশি আক্রমণাত্মক হওয়াটাই কাল হয়েছে তাঁদের, ‘বল নিয়ন্ত্রণে ওরা এগিয়ে থাকলেও কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে গিয়ে আমরা গোল হজম করি। এর পরে আমরা যখন নিজেদের সেরাটা খেলি, তারা বিশ্বমানের একটি গোল করে। যার মূল্য দিতে হয়েছে আমাদের।’

 

প্রথম ম্যাচ হারলেও দল যে খুবই তাড়াতাড়ি জয়ের ধারায় ফিরে আসবে, অধিনায়কের মতো এ ব্যাপারে আশাবাদী কোচ স্কালোনিও, ‘আমার খেলোয়াড়েরা বেশ ভালোই জানে এটা একটা দীর্ঘ টুর্নামেন্ট। আরও দুই ম্যাচ বাকি আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো যা কিছু ভালো করেছি সেগুলো চালিয়ে যাওয়া আর ভুলগুলো ঠিক করা।’

 

বিশ্বকাপের সেরা একাদশে সাকিব!

বিশ্বকাপের দামামা বেজে উঠেছে। একের পর এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ, উল্টে দেয়া সমীকরণ, বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া-সব মিলিয়ে রূপকথার বিশ্বকাপ। এ পর্যায়ে এসে যদি ফ্যান্টাসি একাদশ তৈরি করতে হয়, তা হলে কাদের রাখা যেতে পারে? পারফরম্যান্স অনুযায়ী দেখে নেয়া যাক সেই রূপকথার দল-

প্রথমেই রাখা যেতে পারে রোহিত শর্মাকে। প্রথম ম্যাচে ১২২, পরের ম্যাচে ৫৭। হিটম্যাই ওপেন করবেন, এতে সন্দেহ নেই।

রোহিতের সঙ্গে ওয়ার্নার থাকবেন না তা কি হয়? ডেভিড ওয়ার্নারের আশঙ্কা ছিল আর কোনও দিন হয়তো অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে সেঞ্চুরি করতে পারবেন না। কিন্তু সেই আশঙ্কা দূর করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১০৭ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পরে স্বস্তি ফিরেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপজ্জনক ওপেনারের।

বিরাট কোহলি থাকছেন এর পরে। রানমেশিনকেই দলের অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিরাটের পারফরম্যান্সও বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত বেশ ভাল।

স্টিভ স্মিথ থাকবেন চার নম্বরে। ধারাবাহিক ও দায়িত্বশীল ব্যাটসম্যান হিসাবে স্মিথ রইলেন দলে। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত বেশ ভাল পারফরম্যান্স রয়েছে তাঁর।

সাকিব আল হাসান বিশ্বকাপ শুরুই করেছেন রেকর্ড দিয়ে। বল ও ব্যাট হাতে প্রতিটি ম্যাচে ঝলসে উঠেছেন বাংলাদেশের তারকা। তাঁকে রাখতেই হবে দলে।

কুশল পেরেরাকে রাখা যেতে পারে আগ্রাসী মনোভাবের জন্য। তিনি উইকেটকিপার হিসাবেও বেশ সফল। শেষ দুই ম্যাচে ৭৮ ও ২৯ রান করেন।

পারফেক্ট অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়াকেও দলে রাখতেই হবে। বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলছেন তিনি। আইপিএলেও নজর কেড়েছেন।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল থাকছেন এই দলে। পার্ট টাইম অফ স্পিনার হিসাবেও ভাল। এ ছাড়াও অলরাউন্ডার হিসাবে তিনি যথাযথ। নামের পাশে বড় স্কোর মানেই ম্যাক্সওয়েল, এই প্রবাদের মর্যাদা তিনি রাখবেন বলেই মনে হয়।

প্যাট কামিন্স বল হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন। এই সিমারকে দলে রাখতে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারবেন যে কোনও মুহূর্তে।

যুজবেন্দ্র চাহালকে রাখতেই হবে। তাঁর ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয়েছে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। দিব্যি ভাল খেলছেন তিনি।

দলের অন্যতম ভরসার জায়গা পেস শক্তি। আর পেসকে মজবুত করতে থাকছে যশপ্রীত বুমরাও। দলে তাঁকে রাখতেই হবে।

 

পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে বৃষ্টি

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে এর মধ্যেই বৃষ্টি বাধায় পণ্ড হয়েছে দুটি ম্যাচ। আজকের বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাঠে না গড়ানোর শঙ্কাই বেশি। আর যদি গড়ায়ও তাহলে হবে কার্টেল ওভারে। অর্থাৎ বাগড়া দেয়ায় বৃষ্টি ইতোমধ্যেই সফল! বলতে গেলে এখন পর্যন্ত তিন তিনটি ম্যাচে জয়ী হতে চলেছে কোনো দল নয়, বরং বৃষ্টি!

প্রকৃতির এমন বৈরী আচরণে হতাশ ক্রিকেট ভক্তরা এক হাত নিচ্ছেন আইসিসিকে। তাদের প্রশ্ন, কেন এমন সময় ইংল্যন্ডেই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে?! এই সময়ে ভিন্ন কোনো দেশে বা ভিন্ন কোনো মৌসুমে এই দেশেও তো বিশ্বকাপের আয়োজন করা যেত।

এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপেই ৪টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়নি। ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালে দু’টি করে ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। কিন্তু এবারের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে সেরার কাতারে পৌঁছে গেছে বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়া।

গত ১১ জুন ব্রিস্টলে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় বিশ্বরেকর্ড গড়ে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ। কারণ ওই ম্যাচের আগে চলমান বিশ্বকাপে বৃষ্টির কারণে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ পরিত্যক্ত হবার পর বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ। আর গতকাল ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচও বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে।

বিশ্বকাপের এখনও ৩০টি ম্যাচ (আজ বাদে) বাকী আছে। বাকী ম্যাচগুলোতেও বৃষ্টির প্রভাব থাকবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ এখন ইংল্যান্ডে বিভিন্ন জায়গা জুড়ে যখন তখন, অবিরামভাবে বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়া চলছেই।

এবারের আসরে একটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো পাচ্ছে ২ পয়েন্ট। তাই চারটি ম্যাচে বৃষ্টির জয় হওয়াতে প্রকৃতিকে ২ করে পয়েন্ট দিচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। তাই বৃষ্টির পয়েন্ট গিয়ে দাঁড়ালো আটে। তবে ২২ গজে লড়াই করা দলগুলোর মধ্যে টেবিলের শীর্ষে আছে নিউজিল্যান্ড। ৪ খেলায় ৩ জয় ও ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ততে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহে রেখেছে কিউইরা।

তাই নিউজিল্যান্ডকে সরিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বৃষ্টিই রয়েছে, এমন সব মন্তব্য করে সামাজিক মাধ্যমকে গরম করে তুলেছেন ক্রিকেটপ্রেমিরা। পাশাপাশি সেখানে নিজেদের ক্ষোভ-রাগও ঝাড়ছেন তারা। বিভিন্ন ট্রল করে বিশ্বকাপকে হাস্যকর করে তুলতেও বাদ যাননি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটপ্রেমিরা। বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার দর্শকদের ট্রল বেশি হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে।

‘হালাল’ নাইটক্লাব খুলছে সৌদি আরব

গত কয়েকবছর ধরেই রক্ষণশীল সৌদি আরবের সংস্কৃতিতে নানা পরিবর্তন এসেছে। নিজেদের চিরচেনা খোলস থেকে বেরিয়ে আসছে তারা। নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া, সিনেমা হল নির্মাণ, মাঠে বসে নারীদের খেলা দেখার অনুমতিসহ অনেক কিছুতেই পরিবর্তন এনেছে সৌদি।

এরই অংশ হিসেবে এবার জেদ্দায় ‘হালাল’ নাইটক্লাব খুলতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এই কট্টরপন্থী দেশটি। অ্যাডমাইন্ড হসপিটালিটি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুবাই ও বৈরুতের বিখ্যাত ব্র্যান্ড নাইটক্লাব হোয়াইটের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে সৌদি আরবের জেদ্দায়। এতে বিলাসবহুল ক্যাফে এবং লাউঞ্জ থাকবে।

এই হালাল নাইটক্লাবে ওয়াটারফ্রন্ট থাকবে, এর সাথে থাকবে বিশ্বের খ্যাতনামা মিউজিক গ্রুপের পরিবেশনা। ইলেক্ট্রনিক ডান্স মিউজিক, কমার্সিয়াল মিউজিক, আরএনবি এবং হিপহপ মিউজিক উপভোগ করা যাবে এখানে।

এই নাইটক্লাবের লাউঞ্জের একটি অংশে থাকবে ড্যান্স ফ্লোর। নারী পুরুষ সবার জন্যে ড্যান্স এটা উন্মুক্ত থাকবে। হোয়াইটের সব ধরনের সুযোগ সুবিধাই এখানে পাওয়া যাবে। তবে এই নাইটক্লাবে মদ পাওয়া যাবে না। কারণ সৌদিতে মদ কেনাবেচা অবৈধ। কেউ যদি মদ কেনাবেচা করে তবে তাকে শাস্তি পেতে হয়।

গত কয়েক মাসে নারীপুরুষের অংশগহণে বেশ কিছু ক্যাফেতে পার্টির আয়োজন করা হয়। কিন্তু সৌদি সরকার লাইসেন্স না দেয়ায় উদ্যোক্তারা এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। এমনকি গত বছর এ ধরনের একটি উচ্চস্বরের মিউজিক্যাল পার্টির আয়োজন করায় একটি ক্যাফে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে সৌদিতে বেশ কিছুদিন ধরেই সঙ্গীতানুষ্ঠানের হিড়িক পড়েছে। গত এক বছরে সৌদির বিভিন্ন শহরে মারিয়াহ ক্যারে, ইনরিক, দ্য ব্ল্যাক আইড পিস, ডেভিড গুয়েতা, তিয়েসতো, সিন পল এবং অ্যাকনের মতো বিশ্বের খ্যাতনামা শিল্পী ও মিউজিক গ্রুপের পরিবেশনায় বেশ কিছু সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

পরকীয়া সমীক্ষন

বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষিতে যে বিষয়ে আইন করা একান্তই প্রয়োজন এবং যে বিষয়ে আপাতত কোন যুগোপযোগী আইন নেই এবং অদূর ভবিষ্যতে হবে বলেও মনে হয়না, সেটা হচ্ছে ‘পরকীয়া’।

বাংলাদেশের আইনে (এট লিস্ট আইনের ধারা অনুযায়ী, কেস ল তে থাকলে থাকতে পারে) পরকীয়ার কোন সংজ্ঞা দেয়া হয়নি। বাংলাদেশী পণ্ডিতরা যেহেতু এ বিষয়ে নীরব, তাই এই ফাকে আমিই একটু পণ্ডিতি করি। আশা করি আমার পাঠকরা আমার এই অপচেষ্টা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

৪৯৭ ধারায় বলা হয়েছে যে কোন বিবাহিত ব্যক্তি যদি অন্য কোন বিবাহিত নারীর সাথে জেনেশুনে যৌন সম্পর্ক করে তাহলে তা ব্যভিচার বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সেই পুরুষটির পাঁচ বছরের কারাদন্ড, অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডের বিধান আছে।

জেনে রাখা ভাল পরকীয়ার উপাদান হিসেবে সম্পর্কে জড়িতদের মধ্যে অন্তত একজনের বিবাহিত থাকাটা আবশ্যক! আপনি যতই গাইগুই করুন না কেন, আপনার সাথে ‘সম্পর্ক’ থাকা অবস্থায় আপনার অবিবাহিত গার্লফ্রেন্ড যদি অপর কোন ছেলের সাথে ‘সেইরাম’ সম্পর্কে জড়ায়, সেটাকে আপনি আর যাই বলুন না কেন, টেকনিক্যালী ‘পরকীয়া’ বলতে পারেন না!

পরকীয়াকে বাংলাদেশের আইনে এখনো সংজ্ঞায়িত না করায় এবং এ সম্পর্কে যুগোপযোগী আইন না থাকায় বর্তমানে আমাদের সমাজে এমন কিছু পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যা আমাদের বাপ দাদারা কল্পনাও করতে পারতেন না। উদাহরন দেই_

কালাম এর স্ত্রী সালেহা রাত জেগে সবিরের সাথে মোবাইলে ফুসুর ফাসুর করে, ই মেইলে নগ্ন ছবি পাঠায় (একটি মামলার কাহিনী আসলে), তো এক্ষেত্রে সালেহা বা সালেহার প্রেমিক সবিরের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আইনে দবিরের প্রতিকার কি? জানলে আর্শ্চয্য হবেন, বাংলাদেশের আইনে কালামের এ ব্যাপারে আদৌ কোন প্রতিকার নেই। কালাম সালেহা বা সবিরের বিরুদ্ধে ‘আইনগত’ কোন ব্যাবস্থাই নিতে পারবে না (ব্যাবস্থা থাকলে তো!)।

উদাহরন হিসেবে সালেহার কথা উল্লেখ করলাম, নারীবাদীরা আবার ধরে নিবেন না যেন আমি নারী মাত্রেই পরকীয়ায় আসক্ত বুঝিয়েছি।

সত্যি কথা বলতে বাংলাদেশী সমাজে পরকীয়া ব্যাপারটা অত্যন্ত নোংরা আকারে আসতে পারে এবং ব্যাপারটার জটিলতা এমন পর্যায়ে যেতে পারে যা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।

বাংলাদেশের আইনে পরকীয়াকে কিছুটা (আবারও বলছি কিছুটা) কভার করে এমন একটা আইন হচ্ছে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৪৯৭ ধারা, এটা আবার সরাসরি পরকীয়াকে কভার করেনা, এই আইনটা হচ্ছে আসলে ‘ব্যাভিচারের’ শাস্তির ব্যাপারে। জেনে রাখা ভাল ব্যাভিচারের সামাজিক আর আইনগত সংজ্ঞা এক নয়। আপনারা যেটাকে সাধারনভাবে ব্যাভিচার বলে মনে করেন, আইন সেটাকে ‘ব্যাভিচার’ বলে মনে করেনা।

দন্ডবিধির ধারা ৪৯৭ অনুসারে যদি কোন ব্যাক্তি এমন কোন মেয়ের সাথে সেক্স করে থাকে যাকে সে অন্য কারো বৌ হিসেবে জানে বা অন্য কারো বৌ মনে করার কারন আছে এবং সেই সেক্স করাটা যদি রেপ না হয় (রেপ হলে রেপের আইন প্রযোয্য) এবং এই রকম সম্পর্কে যদি মেয়েটার স্বামীর সম্মতি না থাকে (তার মানে স্বামী যদি বৌকে কারো কাছে ভেট হিসেবে পাঠায় ‘টেকনিক্যালি’ সেটা এই আইনে পরবে না) তাহলে সেই ব্যাক্তি ব্যাভিচারের অপরাধে দন্ডনীয় হবে, তবে এই ব্যাপারে মেয়েটাকে অপরাধী হিসেবে গন্য করা যাবে না।

মানে হল ব্যাভিচারের এই আইন কেবল পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একটা মেয়ে (বিবাহিত হোক বা না হোক) যার সাথে খুশি সেক্স করুক না কেন, সেটা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ‘ব্যাভিচার’ বলে গন্য নয়। এই আইনটা পড়ে আমার মনে সবার আগে যে প্রশ্নটা জেগেছিল সেটা হচ্ছে, এই আইনটার প্রতিবাদ আজ পর্যন্ত কেউ কেন করলেন না কেন? সরি, বলে রাখা ভাল, বাংলাদেশের আইনে ব্যাভিচারের শাস্তি সর্বোচ্চ পাচ বছরের জেল বা জরিমানা বা উভয়ই।

আপনারা কি জানেন ব্যাভিচার সম্পর্কে এই আইন কবে পাশ হয়েছিল? সেই ১৮৬০ সালে, ব্রিটিশরা করে দিয়ে গিয়েছিল, এর পর আর কেউ এই আইন নিয়ে আর চিন্তা ভাবনা করেনি।

আসলে এখন আমাদের উচিত নিজেদের সমাজের জন্য যুগোপযোগী আইন নিজেরাই বানিয়ে নেয়া, আমরা এত কিছুতে স্বাবলম্বী হয়েছি, আইন বানানোতে হতে পারিনা?

বিয়ের দিনেই ১ হাজার শিশুর অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব নিলেন ওজিল

মানুষের জীবনে বিয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় খুব কমই আসে। তবে মেসুত ওজিল ও তার স্ত্রী অ্যামিনে গালস তাদের বিয়ের দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে রাখলেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার আহত শিশু এবং অসহায় ও দুস্থদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে।

গতকাল (শুক্রবার) তুরস্কে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন ওজিল ও অ্যামিনে। প্রধান অতিথি হিসেবে বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসপে তাইয়েপ এরদোয়ান ও তার স্ত্রী এমিনে। এ ছাড়াও বিয়েতে অতিথি হিসেবে অনেক গণ্যমান্য মানুষ উপস্থিত হন। তবে আগত এই অতিথিদের কাছ থেকে কোনো চিরাচরিত উপহার নয়; ওজিল ও অ্যামিনে দাতব্য কাজের জন্য তাদের কাছ থেকে অর্থ-সহয়তা চান।

জানা গেছে, আগুনে পোড়া শিশুসহ পা, ঠোঁট ও তালুর সমস্যায় ভোগা প্রায় ১ হাজার রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন ওজিল ও গালস দম্পতি।

তবে এই প্রথম নয়; এর আগেও বহুবার দাতব্য কাজে নিজেকে জড়িত রেখেছিলেন ওজিল। ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের পর তিনি টুর্নামেন্ট থেকে পাওয়া তার পুরো ২ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডই দান করেন ব্রাজিলের ২৩ শিশুর অস্ত্রোপচারের জন্য।

এবারের অর্থ সংগ্রহ নিয়ে ওজিল বলেন, ‘পেশাদার ফুটবলার হওয়ায় আমি অনেক সৌভাগ্যবান এবং সমাজে ভালো একটি অবস্থানে আছি। আমি সকলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যারা পারবেন খুশি মনে এই বিশেষ সহয়তা কাজে এগিয়ে আসবেন। আমি এবং অ্যামিনে ১০০০ শিশুর অস্ত্রোপচারের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে তার পূর্ণতা দানের জন্য এখনো সহায়তা একান্ত প্রয়োজন।’

এদিকে বিয়ে উপলক্ষে, তুরস্কের রেড ক্রিসেন্টে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও উদ্বাস্তুদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। প্রায় ১৫ হাজার সিরিয়ান অভিবাসীকে নৈশভোজ করানো হয় এই বিয়ে উপলক্ষে।