ইরানের বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপে রাশিয়ার সমর্থন নেই : পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারো তার দেশ’সহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা মস্কো সমর্থন করছে না।

রাশিয়ার বাল্টিক তীরবর্তী বন্দরনগরী সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম- এসপিআইএফই’র শীর্ষ সম্মেলনের অবকাশে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে একথা বলেন ভ্লাদিমির পুতিন।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন,‘ইরানের বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার কোনোটির প্রতি আমাদের সমর্থন নেই।

আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে একথা বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোকে ধ্বংস করা উচিত হবে না।

বিগত বছরগুলোতে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে ইতিবাচক দিকগুলো অর্জিত হয়েছে তা ধ্বংস করা যাবে না এবং (ইরানের বিরুদ্ধে) কোনো পদক্ষেপকেই দীর্ঘমেয়াদে চাপিয়ে দেয়া যাবে না।’

প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, পরমাণু সমঝোতায় চার বছর আগে ইরান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার সবগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছে তেহরান।

তিনি বলেন, পরমাণু কর্মসূচির ক্ষেত্রে ইরান এখন বিশ্বের সবচেয়ে স্বচ্ছ দেশ।

এটি শুধু কথার কথা নয় বরং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা- আইএইএ’র পর্যবেক্ষণ পরবর্তী প্রতিবেদন থেকেও এ কথার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে পুতিন উল্লেখ করেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, আইএইএ’র পর্যবেক্ষকরা এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের একটি প্রমাণও পায়নি।

এ অবস্থায় এই সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে পুতিন বলেন, ওই সমঝোতার ভিত্তিতে ইরানের যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল সেগুলো নিশ্চিত করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।

ধর্ম নয়, সন্ত্রাসবাদ হল হিংসা-বিদ্বেষ এর পুজি।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে নামাজরত মুসলিমদের ওপর হামলার পরো মুসলমানরা কোন ধর্ম কিংবা জাতিকে দোষারোপ কিংবা বিভেদ সৃষ্টি করছে না। কেননা মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয়, এমনকি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয়ও দেয় না।

“ইসলাম” ধর্ম মানেই শান্তি। সন্ত্রাসবাদকে বিশ্বের কোন ধর্মই সমর্থন করে না এটা সুস্পষ্ট যৌক্তিক বিষয়। এক প্রকার গোষ্ঠী নিজেদের হিংসা, বিদ্বেষ ধর্ম কিংতা জাতিগত বৈষম্যতার দোহাই দিয়ে মতলব সাধন করে।

সৈয়দ সাব্বির সিদ্দিকি

(সম্পাদক: ই বরিশাল)

LL.B (Honor’s), LL.M (Master’s)

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর মাথায় ওড়না জড়িয়ে মুসলিম জাতির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন ।

সৈয়দ সাব্বির সিদ্দিকি (সম্পাদক)

LL.B (Honor’s), LL.M (Master’s)

প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

এবারও আরও একটি ঘটনা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কাড়লো। গতকাল বৃহস্পতিবার ক্রাইস্টচার্চের মেমোরিয়াল পার্ক সমাধিক্ষেত্রে একজন নারী পুলিশকে মাথায় ওড়না পরে এবং বুকে লাল গোলাপ নিয়ে পাহাড়া দিতে দেখা যায়।

ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার দিলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা ওই নারী পুলিশের এই ছবিটিকে সংহতি, সম্মান ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে এটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ একটি ছবি।

জানা গেছে, ওই নারী পুলিশ সদস্যের নাম মাইকেল ইভানস। তিনি মাথায় কেলভিন ক্লেইন স্কার্ফ জড়িয়ে, বুকের ওপর লাল গোলাপ নিয়ে এবং বুশমাস্টার সেমি-অটোমেটিক রাইফেল হাতে নিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

ছবিটি তুলেছেন নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘স্টাফ’ এর ফটো সাংবাদিক আলডেন উইলিয়ামস।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা জীবনে অনেক পুলিশ সদস্যের ছবি তুলেছি। কিন্তু মাথায় হিজাব, হাতে অ্যাসল্ট রাইফেল আর বুকে লাল গোলাপ- এর মতো অসধারণ সামঞ্জস্যের এরকম ছবি আগে কখনো দেখেনি। এমনকি ওই নারী পুলিশ সদস্য যদি এগুলোর যেকোনো একটি নিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতো, সেটা হতো ভিন্ন কিছু।”

তিনি বলেন, “অধিকাংশ গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করতে আসা মগরেল মবদের ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিল। তখন আমি আমি এই ছবিটি তুলি।”

ছবিটি প্রথমে শেয়ার করা হয় ’স্টাফ’ এর লাইভ ব্লগে। সেখানে মুহূর্তেই এটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়। পরে সেটি ফটোগ্রাফার উইলিয়ামস তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই প্লাটফর্মে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ছবিটি এত পরিমাণে লাইক পায়, যা অন্য সবগুলো ছাড়িয়ে যায় মুহূর্তেই।

ছবিটি নিয়ে অনেকে কমেন্টও করেছেন। একজন লিখেছেন, “ছবিটি নিউজিল্যান্ডের সহিষ্ণুতা, সমবেদনা এবং মানবতার এক বলিষ্ঠ উদাহরণ।”

নিউজিল্যান্ডের পত্রিকা জুড়ে ‘সালাম, শান্তি’

আজ শুক্রবার। গত সপ্তাহের এই দিনে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন নিহত হয়। আজ নিহতদের স্মরণে এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সে দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো। নিউজিল্যান্ডের জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রথম পাতাতেই ছাপা হয়েছে,‘সালাম, শান্তি’। আর খালি রাখা হয়েছে বাকি জায়গাগুলো।

দেশটির জাতীয় দৈনিক দ্য প্রেসের প্রথম পাতায় বড় অক্ষরে আরবিতে সালাম লেখা রয়েছে। এর নিচেই লেখা ইংরেজিতে সালাম, শান্তি। এর পরে নিচে লেখা, রাত ১:৩২, ক্রাইস্টচার্চে এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহতদের জন্য আমরা দুই মিনিট নিরবতা পালন করেছি। এরপর এক এক করে নিহতদের নামগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলায় নিহতদের সবার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে অবগতও করা হয়েছে। লাশগুলো এখন তাদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার ৩০ জনের লাশ শনাক্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে বুধবার পাঁচজনের লাশ ‘ক্রাইস্টচার্চ মেমোরিয়াল সিমেটারি’কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে হত্যাযজ্ঞের এক সপ্তাহ পর আজ ফের খুলে দেয়া হচ্ছে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদ। এ দুই মসজিদেই জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। নামাজের সময় মুসল্লিদের মসজিদের বাইরে নিরাপত্তায় থাকবে মোটরসাইকেল চালকদের স্থানীয় তিনটি গ্রুপ।