প্রতি দিন ছাপবে ২৫ হাজার ই-পাসপোর্ট, ছাপা হবে এমআরপিও

আগামী ১ জুলাই থেকে সর্বাধুনিক ই-পাসপোর্টের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এদিন থেকে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ পাসপোর্ট হাতে পাবেন বাংলাদেশের নাগরিকেরা।

প্রাথমিকভাবে কয়েকটি প্রক্রিয়ায় ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে ধীরগতি দেখা দিলেও এবার যেকোনো মূল্যে ই-পাসপোর্ট শুরু করতে আটঘাট বেঁধে নেমেছে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতিসহ শুধুমাত্র ভিভিআইপি-ভিআইপিদের দেয়া হবে ই-পাসপোর্ট।

এরপর পরবর্তী ধাপে আবেদন করবেন সাধারণ নাগরিকরা। তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অধিদফতর। প্রথম দিন থেকে বাংলাদেশের সব নাগরিক আবেদনের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে ই-পাসপোর্ট।

১ জুলাই উদ্বোধনের কয়েকমাসের মধ্যেই দিনে মোট ২৫ হাজার ই-পাসপোর্ট প্রিন্ট করতে সক্ষম হবে অধিদফতর।

ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির কাজ চলছে। আমরা ফ্যাক্টরি তৈরির কাজ করছি। প্রথমদিন থেকেই সবাই ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে ই-পাসপোর্টের ফি’র প্রস্তাব গিয়েছে। তারা ফি নির্ধারণ করবে। উদ্বোধনের পর ফুল সেটআপের জন্য আরও কিছুদিন সময় লাগবে। পুরোপুরি প্রস্তুত হলে দিনে ২৫ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা সম্ভব হবে।’

এদিকে এমআরপি পাসপোর্টধারী অনেকেই শঙ্কায় রয়েছেন ই-পাসপোর্ট আসলে তাদেরটা পরিবর্তন করতে পারবেন কি-না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদফতরের একজন পরিচালক বলেন, ‘ই-পাসপোর্ট আসলেও এমআরপি সচল থাকবে।

শুধু তাই নয় কেউ যদি এমআরপি করতে চায়, তাহলে সে ই-পাসপোর্ট না নিয়ে এমআরপি’র জন্য আবেদন করতে পারবে। এটা একান্তই নাগরিকদের ইচ্ছা।’

এদিকে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে থাকলেও এখনো এর ফি চূড়ান্ত করা হয়নি। এজন্য অধিদফতরের সবাই এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

পাসপোর্ট অধিদফতর থেকে জানা গেছে, ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য ন্যূনতম ৬ হাজার হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ৬ হাজার টাকা দিলে একজন নাগরিক ২১ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাবেন।

এছাড়াও ৭ দিনের এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১২ হাজার এবং ১ দিনের সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

অত্যাধুনিক এই ই-পাসপোর্ট একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর (মোবাইলের মেমোরি কার্ডের মতো) চিপ থাকবে। এই মাইক্রোপ্রসেসর চিপে পাসপোর্টধারীর বায়োগ্রাফিক ও বায়োমেট্রিক (ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের মণি) তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পাসপোর্টধারীর পরিচয়ের সত্যতা থাকে।

ই-পাসপোর্টে মোট ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে। বর্তমানে এমআরপি ডেটাবেইসে যেসব তথ্য আছে, তা ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে। ই-পাসপোর্ট চালু হলে জালিয়াতি ও পরিচয় গোপন করার কাজ কঠিন হবে বলে দাবি করছে অধিদফতর। পৃথিবীর ১১৯টি দেশের নাগরিকরা ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করেন।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান জার্মানির ভেরিডোসের সঙ্গে ই-পাসপোর্টের চুক্তি করেন। এরপর ডিসেম্বর মাসে পাসপোর্ট দেয়ার কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্তে কিছুটা পরিবর্তন আনে অধিদফতর।

নির্বাচনের আগ দিয়ে প্রথম ধাপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও কমার্শিয়াল ইমপর্টেন্ট পারসনকে (সিআইপি) ই-পাসপোর্ট দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা ছিল। সর্বসাধারণকে জানুয়ারিতে পাসপোর্ট দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে জার্মানির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পাসপোর্টের ইলেকট্রনিক চিপে দশ আঙুলের ছাপ থাকার কথা। তবে চুক্তি সাক্ষরের পর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী জার্মান কোম্পানি মাত্র দু’টি আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করতে চাচ্ছে।

‘মাত্র ২ আঙুলের ছাপে ভবিষ্যতে জালিয়াতি হতে পারে’, তাই এ প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না পাসপোর্ট অধিদফতর। এ নিয়ে জার্মান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠক ও চিঠি চালাচালি হয়েছে। বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। এটাও ই-পাসপোর্টের বিলম্ব হওয়ার অন্যতম কারণ।

এ বিষয়ে পিডি সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘১ জুলাই ই-পাসপোর্ট আসছে। এ নিয়ে নিয়ে আর কোনো জটিলতা নেই।’ ইতোমধ্যে উত্তরায় কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ওই কারখানা থেকে ছাপানো হবে ই-পাসপোর্ট।

ইরানের বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপে রাশিয়ার সমর্থন নেই : পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারো তার দেশ’সহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা মস্কো সমর্থন করছে না।

রাশিয়ার বাল্টিক তীরবর্তী বন্দরনগরী সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম- এসপিআইএফই’র শীর্ষ সম্মেলনের অবকাশে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে একথা বলেন ভ্লাদিমির পুতিন।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন,‘ইরানের বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার কোনোটির প্রতি আমাদের সমর্থন নেই।

আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে একথা বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোকে ধ্বংস করা উচিত হবে না।

বিগত বছরগুলোতে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে ইতিবাচক দিকগুলো অর্জিত হয়েছে তা ধ্বংস করা যাবে না এবং (ইরানের বিরুদ্ধে) কোনো পদক্ষেপকেই দীর্ঘমেয়াদে চাপিয়ে দেয়া যাবে না।’

প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, পরমাণু সমঝোতায় চার বছর আগে ইরান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার সবগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছে তেহরান।

তিনি বলেন, পরমাণু কর্মসূচির ক্ষেত্রে ইরান এখন বিশ্বের সবচেয়ে স্বচ্ছ দেশ।

এটি শুধু কথার কথা নয় বরং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা- আইএইএ’র পর্যবেক্ষণ পরবর্তী প্রতিবেদন থেকেও এ কথার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে পুতিন উল্লেখ করেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, আইএইএ’র পর্যবেক্ষকরা এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের একটি প্রমাণও পায়নি।

এ অবস্থায় এই সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে পুতিন বলেন, ওই সমঝোতার ভিত্তিতে ইরানের যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল সেগুলো নিশ্চিত করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।

এবার হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণ পাবেন নারীরা 

হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে নারীদের বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (পর্যায়-২) শীর্ষক প্রকল্পটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি ও সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) বাস্তবায়ন করবে।

সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয় সম্প্রসারিত প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১২ কোটি ৩২ লাখ ৮১ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের দরিদ্র, স্বল্প শিক্ষিত, পিছিয়ে পড়া যুব সম্প্রদায়কে হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন।

আর লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে ধরা হয়েছে সমাজের দরিদ্র, স্বল্প শিক্ষিত, পিছিয়ে পড়া যুব সম্প্রদায়কে কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য চিহ্নিত বা বাছাই করা; বেকার যুব সমাজকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবলে রূপান্তর করা; প্রশিক্ষিত এ জনবলকে শিল্পখাতের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মে নিয়োজিত করা; অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল ধারায় নারীদের বেশি সম্পৃক্ত করা; শিল্পক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বেশি নিশ্চিত করা; আর্থ-সামাজিক সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা; নারী উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে যাবতীয় সহায়তা প্রদান; প্রশিক্ষিত কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন জনবলের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ওয়ার্কশপ স্থাপন ত্বরান্বিত করা, জ্ঞান ও দক্ষতার আধুনিকরণের মাধ্যমে এসএমই সেক্টরের জন্য মানব সম্পদের উন্নয়ন; সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮ বাস্তবায়ন করা, ভিশন-২০২১, ২০৪১ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ অর্জনে ও ব্যাপক সফলতা অর্জনে সহায়তা প্রদান করা।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যায়ে ১৫টি ও বাস্তবায়নোত্তর পর্যায়ে একটি পদের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের বাজেট কাঠামোতে (এমবিএফ) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত।

জানা গেছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বল্প শিক্ষিত, দরিদ্র, এবং পিছিয়ে পড়া বেকার তরুণ-তরণীদের প্রশিক্ষণের পরই সনদের সঙ্গে চাকরি দেয় বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)। ১৯৬২ সালে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এটি কাজ শুরু করে।

২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার কথা ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এর বাস্তবায়নের জন্য ২০০৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন সেপা প্রকল্প শুরু করে। থাকা খাওয়াসহ প্রশিক্ষণের যাবতীয় খরচ সরকারিভাবে প্রকল্প থেকে বহন করা হয়।

সেপা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বল্প শিক্ষিত, দরিদ্র এবং পিছিয়ে পড়া বেকার যুব-মহিলাদের ৯টি ট্রেডে তিন মাস এবং যুবকদের ৩টি ট্রেডে ২ মাস মেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করা হয়।

এগুলো হলো লাইট মেশিনারিজ, ইলেকট্রিক্যাল মেইনটেন্যান্স, অটোক্যাড, হাউজহোল্ড অ্যাপ্লায়েন্স, ইলেকেট্রনিক্স, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, প্লাস্টিক প্রসেসিং (জেনারেল), প্লাস্টিক প্রসেসিং (কাস্টমাইজ) এবং কার্পেন্ট্রি। ছেলেদের জন্য তিনিটি ট্রেড যথাক্রমে ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক্যাল মেইনটেন্যান্স এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং।

সেপা প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯৬৩ নারী ও ৩ হাজার ৯৬০ জন পুরুষসহ সর্বমোট ৭ হাজার ৯২৩ জনকে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় সরাসরি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্প থেকে জুলাই ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ৯ হাজার ৫৮১ জন নারী, ১৪ হাজার ৫৩২ জন পুরুষসহ সর্বমোট ২৪ হাজার ৮২ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিটাকের মহাপরিচালক ড. মো. মফিজুর জানান, শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ প্রদান, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের নকশা প্রণয়ন ও সেগুলো তৈরি/মেরামত করে দেশের শিল্পায়নে সহায়তা প্রদান করে বিটাক।

এ ছাড়া এসএমই সেক্টরে বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে শিল্প সেক্টরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও বিটাক অবদান রাখছে। এসব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে বিটাকের কর্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

এটা একদমই নতুন ম্যাচ, প্রথম বল থেকেই সব শুরু করতে হবে : মাশরাফি

‘আরে, ইংল্যান্ড এখন যত ভালো দল আর কঠিন প্রতিপক্ষই হয়ে উঠুক না কেন, কঠিন সত্য হলো, গত দুই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাথে পারেনি।

সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ একটি মাত্র বড় শক্তিকেই হারিয়েছে, সেটা হলো ইংল্যান্ড। কাজেই ভেন্যু কার্ডিফ যেমন বাংলাদেশের পয়োমন্ত, একইভাবে টিম ইংল্যান্ডও বাংলাদেশের প্রিয়’-এমন কথা অনেক বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থকের মুখে মুখে।

এমন কি আজ (শুক্রবার) ইংল্যান্ডের হয়ে ম্যাচের আগের প্রেস কনফারেন্সে আসা অধিনায়ক ইয়ন মরগানকেও অতীতের ম্যাচগুলো প্রশ্ন শুনতে হলো। বলা হলো, তোমরা তো গত দুই বিশ্বকাপ ধরে বাংলাদেশের সাথে পারো না। তোমাদের পেলেই বাংলাদেশ তেঁতে ওঠে।

একই প্রশ্ন উঠলো বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার প্রেস কনফারেন্সেও। এক ইংলিশ সাংবাদিক বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে জানতে চাইলেন, ‘আচ্ছা, আপনারা তো ইংল্যান্ডকে গত দুই বিশ্বকাপে হারিয়েছেন। ২০১১ সালে দেশের মাটিতে জেতার পর ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডেও ইংলিশদের সাথে জিতেছিলেন।

এই যে আপনারা পর পর দুই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে আছেন, আগামীকালও কি জিততে চাচ্ছেন? মানে ইংলিশদের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ জয়ের চিন্তা করছেন? আর আপনাদের কাছে পর পর দুই বিশ্বকাপে হেরে ইংলিশরা কি মনের দিক থেকে একটু দুর্বল থাকবে? তাদের ওপর কি একটা বড় চাপ আছে?’

ঐ ইংরেজ সাংবাদিকের প্রশ্নটাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সারা ক্রিকেট বিশ্বে। সাত সমুদ্র তোরো নদীর ওপারে থেকেও বোঝা যায়, বাংলাদেশের ভক্ত ও সমর্থকদের বড় অংশ আগের দুই ম্যাচের ফল নিয়ে অনেক বেশি আবেগতাড়িত। এবং ঐ দুই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের বিষয়টি কম বেশি সবার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

২০১১ সালের মার্চে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২ উইকেটের আর ২০১৫ সালে অ্যাডিলেডে ১৫ রানের জয়ের প্রসঙ্গটি কালকের ম্যাচের আগে বারবার চলে আসছে।

নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে, বাংলাদেশ দল ঐ দুই ম্যাচ নিয়ে আসলে কি ভাবছে? টাইগারদের ভাবনায় আগের দুই বিশ্বকাপে টানা ইংলিশদের হারানোর স্মৃতি কতটা সজীব আছে? তারা কি এখনো ঐ দুই ম্যাচের সুখস্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন?

আগামীকাল ৮ জুন শনিবার সাফল্যের পয়োমন্ত ভেন্যু কার্ডিফে মাঠে নামার আগে অধিনায়ক মাশরাফির ঐ দুই ম্যাচ, তার পারফরমেন্স আর ফল নিয়ে ভাবনাটাই বা কি?

যারা ধরেই বসে আছেন, টাইগাররা ঐ দুই জয়কে বড় দাওয়াই ভেবে খুশি মনে মাঠে নামবে, তারা একটু কষ্ট পাবেন। চরম বাস্তববাদী অধিনায়ক মাশরাফির চিন্তা-ভাবনায় ঐ দুই জয় নেই বললেই চলে।

সব সময় প্রতিটি বিষয়ে যাকে আবেগ টানে না, যিনি অতীতমুখো নন, সব সময় বর্তমান এবং বাস্তবকেন্দ্রিক চিন্তা করেন-সেই মাশরাফির ঐ দুই ম্যাচ জয়ের স্মৃতি মনে আছে। কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়ক তা নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নন।

তার উপলব্ধি ও সোজা সাপটা উচ্চারণ, ‘দেখেন আমরা আগের দুই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সাথে জিতেছি, ইংলিশরা আমাদের সাথে পারেনি। এটা যেমন সত্য, আবার কাল যে ম্যাচটি হবে সেখানে ঐ দুই খেলার এবং জয়ের প্রভাব ফেলার সম্ভাবনাও কম।

কারণ সে দুই খেলা এখন অতীত। যার অস্তিত্ব আছে মূলত ইতিহাস ও পরিসংখ্যানে। সেটা নিয়ে পড়ে থাকলে তো আর চলবেনা। এবারের বিশ্বকাপ একটি নতুন আসর। কাল আমরা ইংল্যান্ডের সাথে যে ম্যাচটি খেলতে নামবো, সেটাও একদম নতুন খেলা।’

মাশরাফি যোগ করেন, ‘এমন তো নয়, আগের ম্যাচ যেখানে শেষ হয়েছিল, কালকের ম্যাচ ঠিক সেখান থেকেই শুরু হবে। তা হবে না। একদম নতুন দিন, নতুন আসর আর ভিন্ন ম্যাচ। প্রথম বল থেকে সবই নতুন। কাজেই আগের দুই জয় নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না।’

এটুকু শুনে আবার ভাববেন না, আগের দুই বিশ্বকাপে ইংলিশদের হারানোর কোনই মূল্য দিচ্ছেন না মাশরাফি। দিচ্ছেন। মানছেন, তাদের স্মৃতিতে ঐ দুই ম্যাচ জয়ের সুখস্মৃতি এখনো জাগরুক। সেটা মনের জোর বাড়াতে পারে। মনকে চাঙ্গা রাখতে পারে। মাশরাফি বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস তো অবশ্যই দেবে।

আমরা ইংলিশদের হারাতে পারি। আগে হারিয়েছি। এটা একটা অনুপ্রেরণা। তবে আসল কাজ হলো ম্যাচে জায়গামত করণীয়গুলো ঠিক মত করা। আগে পেরেছি বলেই কালও পারবো, এভাবে ভাবার কিছু নেই। আমাদের কাজ হলো সময়মত পারফর্ম করা। যখন যা দরকার, তা ভালো ভাবে করতে পারা। সেটা করার কথাই ভাবছি।’